প্রথম পাতা

‘কাউন্সেলিং সেশন’ নামে প্রহসন

পশ্চিম জেলার জেলাশাসক কার্যালয় একদিন আগে নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে একটি ছবি পোস্ট করেছে৷ ছবিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, তথ্য সংসৃকতি দফতর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরকে ট্যাগ করা হয়েছে৷ ওই ছবির শুরুতেই লেখা---‘কাউন্সেলিং সেশন অ্যাট মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হসপিটাল’৷ অর্থাৎ আধুনিক মানসিক হাসপাতালে কাউন্সেলিং সেশন৷

Pratibadi Kalam Newsroom3 মিনিট পড়া
‘কাউন্সেলিং সেশন’ নামে প্রহসন

প্রতিবাদী কলম প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ জুন৷৷ অনেকটা খিচুড়ি প্রসাদ নেওয়ার লাইনের মতো! সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে যতই বলা হোক, রাজ্যে এখন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি হয়েছে, বাস্তবে বিষয়টি ঠিক অন্যরকম৷ এতোটাই অন্যরকম যে ‘কাউন্সেলিং সেশন’-এ প্রায় ৪০-৪৫ জনকে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে পড়তে বলা হয় এবং তাদেরকে এক-দু’মিনিট সময় নিয়ে হাসপাতালের পক্ষে কেউ একজন ‘কাউন্সেলিং’ করে ফেলেন৷ বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মহলে ছিঃ ছিঃ রব উঠেছে৷

পশ্চিম জেলার জেলাশাসক কার্যালয় একদিন আগে নিজেদের ফেসবুক পেজ থেকে একটি ছবি পোস্ট করেছে৷ ছবিটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, তথ্য সংসৃকতি দফতর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরকে ট্যাগ করা হয়েছে৷ ওই ছবির শুরুতেই লেখা---‘কাউন্সেলিং সেশন অ্যাট মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হসপিটাল’৷ অর্থাৎ আধুনিক মানসিক হাসপাতালে কাউন্সেলিং সেশন৷ মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং রোগীদের সার্বিক পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে হাসপাতালের একজন নিউরো- সাইকিয়াট্রিস্ট কাউন্সেলিং সেশনটি নিয়েছেন৷ এই কথাও জেলাশাসক কার্যালয়ের সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখিত আছে৷ কিন্তু সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো, আজকের মতো সভ্য পৃথিবীতে কোথাও এভাবে লাইন দিয়ে ৫০-৬০ জন যুবক ও তরুণদের দাঁড় করিয়ে কোনও কাউন্সেলিং সেশন হয় না৷ হতেই পারে না৷

কাউন্সেলিং সেশন মানেই একটি ঘর থাকবে, প্রয়োজনে সেখানে গোপনীয়তা বজায় রাখার যাবতীয় সাজসজ্জা থাকবে৷ আর কিছু না হোক, যাদের কাউন্সেলিং করা হবে, তাদের অন্তত কোথাও একটা বসতে দেওয়া হবে৷ এরচেয়েও বড় কথা, একজন নিউরো সাইকিয়াট্রিস্ট যখন কাউন্সেলিং করবেন, তখন সেখানে যে বা যারা কাউন্সেলিং করাতে আসবেন, তাদের ছবি কিভাবে জেলাশাসক কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় থেকে সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দেওয়া হবে৷ ছবিটির কথা বাদ দেওয়া যাক৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে কাউন্সেলিংয়ের জন্য বেশ কিছু হ্যান্ড বুক তৈরি করা হয়েছে৷ মেন্টাল হেল্‌থ কেয়ার অ্যাক্ট ২০১৭ মোতাবেক যেসব গাইডলাইন রয়েছে, তাতে কোথাও একসঙ্গে ৫০ জনকে লাইনে দাঁড় করিয়ে কাউন্সেলিংয়ের উল্লেখ নেই৷ অন্তত একটি মানসিক হাসপাতালের ভেতরে তা কোনওভাবেই হতে পারে না৷ সবচেয়ে বড় কথা, মেন্টাল হেল্‌থ কেয়ার ২০১৭ মোতাবেক এই কথা স্পষ্টত বলা হয়েছে যে, যে কোনও নাগরিক যাতে ‘রিসিভ সার্ভিস ইন এবসলিউট কনফিডেন্সিয়েলিটি’৷

আইনটির ৫ম অধ্যায়ে ধারা ২৩ থেকে ধারা ২৫ পর্যন্ত যেসব কথা বলা হয়েছে, তা সর্বোতভাবে উপেক্ষিত হয়েছে পশ্চিম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তরফে দেওয়া সামাজিক মাধ্যমের ছবিটিতে৷ ছবিটির মধ্যে প্রায় সকলের মুখ চিহ্ণিত করা যাচ্ছে৷ ছবিটিতে প্রত্যেকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন৷ এতোটাই কাছাকাছি দাঁড়ানো যে, একজনের কথা আরেকজন শুনতে পাবেন৷ চিকিৎসক এভাবে কি কাউন্সেলিং করলেন? শুধু একটা ছবি তুলে পোস্ট করার জন্যেই কি কাউন্সেলিং সেশানের নাটক? যে ডাক্তারবাবু বা কাউন্সেলররা এই দায়িত্বে ছিলেন, তারাও ছবি তুলে নিজেদের সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপ ইত্যাদিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন৷ আইনটিতে বলা আছে --- ‘‘নো ফটোগ্রাফস অর আডেন্টিফাইয়িং ডিটেইলস ক্যান বি রিলিজড টু দ্যা মিডিয়া উইথআউট এক্সপ্লিসিট কনসেন্ট’’৷

এভাবে একটি আইনকে উপেক্ষা করার কি মানে৷ আইনটির ৫ম অধ্যায়ের ২৬ নম্বর উপধারাতে যে কথাগুলো বলা হয়েছে সেখানেও গোপনীয়তার কথা উল্লেখিত৷ আইনে স্টেট মেন্টাল হেল্‌থ অথরিটির যে দায়দায়িত্ব তা ১২টি উপধারায় ব্যাখ্যা করা আছে৷ এছাড়া আইনের ১৩ নম্বর অধ্যায়ে যে ৬টি উপধারা রয়েছে সেখানেও নানা ব্যাখ্যা বিদ্যমান৷ এমতাবস্থায় এই আইন উপেক্ষা করে কোনওভাবেই জেলাশাসক কার্যালয় কাজটি করতে পারে না৷

প্রতিদিন যেভাবে ডজনে ডজনে আইন উপেক্ষার খেলা চলছে, তা কার্যত এখন প্রতিদিনের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে৷ এই পরিস্থিতিতে জেলাশাসক কার্যালয় থেকে জারি করা ছবিটি সার্বিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের পুরো বিষয়টিকেই নস্যাৎ করে দেয়৷ দেখার, এই খবর প্রকাশের পর জেলাশাসক আলাদা করে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেন কিনা?