অপরাধ

সোনা চুরি, অভিযুক্ত ওসি!

সূত্রের খবর, আদালত ডিজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন বিশালগড় থানার ওসি বিজয় দাস, সেকেন্ড ওসি সুপ্রতীম দে সহ এসআই বাণীজয় রিয়াং এর বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করতে৷

Pratibadi Kalam Newsroom3 মিনিট পড়া
সোনা চুরি, অভিযুক্ত ওসি!

বিশালগড়, ২৬ জুন৷৷ ত্রিপুরা পুলিশের জন্য কিছুই ভাল যাচ্ছে না৷ বদনাম ঢাকতে চাইলেও দূর হচ্ছে না৷ থানা থেকে নেশাদ্রব্য সরিয়ে ইন্‌সপেকটর, এসআই’রা গ্রেফতার হচ্ছে৷ আবার কনস্টেবলের ঘরে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে৷ পূর্ব আগরতলা থানায় নিরীহকে নির্যাতন করে সাসপেন্ড হতে হয়েছে অন্তত চারজনকে৷ সাসপেন্ড হলেন আমতলি থানার এসআই সুস্মিতা দেবনাথ৷ পুলিশ যেন সবদিক থেকেই বদনাম হয়ে আছে৷ এরমধ্যে নতুন সংযোজন বিশালগড় থানা৷ প্রায় চার কোটি টাকার স্বর্ণ নাকি সরিয়ে নিয়েছে ওসি ও সেকেন্ড অফিসার৷ উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলা নিতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ৷ ফেন্সিকান্ডে গ্রেফতার হয় পুলিশ৷ নেশাদ্রব্য পাচারের সাথে জড়িত হচ্ছে পুলিশ৷ বাদ যাচ্ছেনা সোনা চুরিও৷

গত ফেব্রুয়ারী মাসে বিশালগড় থানার পুলিশ সোনামুড়া থেকে আগরতলাগামী একটি গাড়ি আটক করেন বিশালগড় কলেজের সামনে৷ এসআই বাণীজয় রিয়াং সেই গাড়ি আটকে পাশের চা বাগানে নিয়ে গিয়েছিল৷ পরে থানার ওসি বিজয় দাসের কথায় ওই এসআই গাড়িটিকে থানায় এনে ওসির হাতে হ্যান্ড ওভার করে চলে যান৷ কারণ বাণীজয়ের আগেরদিন নাইট ডিউটি ছিল, তাই ওসির হাতে গাড়ি দিয়ে ঘরে চলে যান৷ আর তারপর থেকেই নাকি শুরু হয় আসল খেলা৷ অভিযোগ, সোনামুড়ার ওই পার্টির কাছে নাকি থানার ওসি বিজয় দাস এবং সেকেন্ড ওসি সুপ্রতীম দে সেটেলমেন্টের কথা বলেছেন৷ অর্ধেক পুলিশ আর অর্ধেক পার্টি পাবে৷ কিন্তু তারা জানান এটা তো পারিবারিক সোনা৷ পরিবারের একজনের মেরুদন্ড ভেঙে যাওয়াই সেই সোনা আগরতলায় বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ কিন্তু পুলিশ সেই কথা মানতেই নারাজ৷ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন যুবককে থানায় বসিয়ে রেখে মেডিক্যাল চেকআপ করে ছেড়ে দেন৷

পরে তারা দেখেন গাড়িতে সোনা নেই৷ তবে এই সোনা যারই হোক পাচারেরও যদি হয়ে থাকে তাহলে পুলিশ মেরে দিয়েছে এটা হলো কথা৷ তাই সোনামুড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ নাকি আমল দেয়নি৷ পরে সিপাহিজলা জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মার কাছেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ কিন্তু কোন কাজ হয়নি৷ তাই বাধ্য হয়ে বিল্লাল মিয়া নামের যুবক উচ্চ আদালতে বিশালগড় থানার ওসি বিজয় দাস, সেকেন্ড ওসি সুপ্রতিম দে সহ এসআই বাণীজয় রিয়াং’র বিরুদ্ধেও একটি অভিযোগ দায়ের করেন৷ আদালত সেই মামলা নথিভুক্ত করেন৷ যার নম্বর - ডব্লিউ পি (সি) ১৮৩ অফ ২০২৬৷ প্রতিবাদী কলম পত্রিকায় সেই খবরও প্রকাশিত হয়৷

আদালতের বিচারক রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক, মুখ্য সচিব সহ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এটার জবাব চান৷ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব সূত্রধর একটি তদন্ত করে পুরো ক্লিনচিট দিয়ে দেন৷ কিন্তু আদালত সেই তদন্তে সন্তুষ্ট হয়নি৷ ফলে এটা নিয়ে আরও চাপ বাড়তে থাকে৷ এক কথায় পুলিশের এই সোনা চুরির ঘটনায় থরহরি কম্পন শুরু হয়ে যায়৷ বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের আইজি (আইন শৃঙ্খলা) মনচাক ইপ্পার বিশালগড় থানায় ছুটে আসেন সেই ঘটনা নিয়ে৷ ওসি বিজয় দাসকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করেন৷ কিন্তু আইজি সেই কথা স্বীকার করতে চাননি৷ তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে অন্য কথা বলেছেন৷ কিন্তু শুক্রবার দুপুরে ফের রাজ্য পুলিশের আইজি (ইন্টেলিজেন্স) কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীও সিপাহিজলা অভয়ারণ্যের গেস্ট হাউসে ছুটে আসেন৷ আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী জেলার সমস্ত গোয়েন্দা পুলিশদের নিয়ে বৈঠক করলেও তার আগে আলাদা একটি কাচের রুমে ওসি বিজয় দাসের সাথে একা এই বিষয়ে কথা বলেছেন৷ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ধরে এই সোনা গায়েব হয়ে যাওয়া নিয়েই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে গুঞ্জন৷ পরে তিনি অন্য কর্মীদের সাথে কথা বলেছেন৷ সূত্রের খবর, আদালত ডিজিপিকে নির্দেশ দিয়েছেন বিশালগড় থানার ওসি বিজয় দাস, সেকেন্ড ওসি সুপ্রতীম দে সহ এসআই বাণীজয় রিয়াং এর বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করতে৷ আইজি যাওয়ার পর সন্ধ্যা থেকে এখনো পর্যন্ত বিশালগড় থানায় বসে রয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব সূত্রধর এবং এসডিপিও বিকাশ সেন্থিয়া৷ ক্রাইম ব্রাঞ্চে নাকি মামলার তদন্তভার দেওয়া হচ্ছে৷

পুলিশ প্রায় চার কোটি টাকার স্বর্ণ চুরি করে নিয়েছে বলে মুল অভিযোগ৷ বিশালগড় থানার ওসি বিজয় দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই৷ যেহেতু আগে তিনি সেই থানায় দুইবার করে থেকে গিয়েছেন তাই বিশালগড় তার চেনা সাম্রাজ্য৷ ফলে যা খুশী তাই করছেন৷ তবে এই ঘটনাটি নিয়ে ডিজিপি খোদ নিজে মাঠে নেমে পড়েন৷ শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব সূত্রধরকে থানার সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখতে দেখা যায়৷